হজ্ব ও উমরার আহকাম

86

আভিধানিক অর্থে হজ্ব

ইচ্ছা করা ও কোনো গন্তব্যের দিকে গমন

শরয়ী পরিভাষায় হজ্ব

বিশেষ ইবাদত আদায়ের উদ্দেশে সুনির্দিষ্ট সময়ে মক্কার উদ্দেশে গমন ।

হজ্বের হুকুম ও ফজিলত

হজ্ব ইসলামের একটি স্তম্ভ, যা আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের উপর ফরজ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে:

(وَلِلَّهِ عَلَى ٱلنَّاسِ حِجُّ ٱلۡبَيۡتِ مَنِ ٱسۡتَطَاعَ إِلَيۡهِ سَبِيلٗاۚ وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ ٱلۡعَٰلَمِينَ ٩٧)

{এবং সামর্থ্যবান মানুষের উপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ্ব করা ফরজ। আর যে কুফরী করে, তবে আল্লাহ তো নিশ্চয় সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী।} [সূরা আলে ইমরান:৯৭]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, «ইসলাম পাঁচটি জিনিসের ওপর নির্মিত: এ সাক্ষ্য দেয়া যে আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম. আল্লাহর দাস ও রাসূল এবং নামাজ কায়েম করা, জাকাত দেয়া, বায়তুল্লাহর হজ্ব করা ও রমজানের রোজা রাখা।»(বর্ণনায় তিরমিযী) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্যত্র বলেছেন,«যে ব্যক্তি হজ্ব করল এবং অশ্লীল কথা পরিত্যাগ করল এবং কোনো গুনাহ করল না, তার অতীতের সকল পাপ মাফ করে দেয়া হলো।

হজ্বের শর্ত

১- ইসলাম

সে হিসেবে অমুসলিমের উপর হজ্ব ফরজ নয়, অমুসলিম ব্যক্তি হজ্ব করলে তা শুদ্ধও হবে না|

২- সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন হওয়া

অতএব পাগলের ওপর হজ্ব ফরজ নয়; কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,«তিন ব্যক্তির ওপর থেকে কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হবে, শিশু যতক্ষণ না সে প্রাপ্তবয়স্ক হবে, পাগল যতক্ষণ না সে সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন হবে।»(বর্ণনায় আবু দাউদ)

৩- প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া

অতএব অপ্রাপ্তবয়স্কের ওপর হজ্ব ফরজ হবে না। তবে যদি সে হজ্বের উদ্দেশে বের হয় তবে তার হজ্ব শুদ্ধ হবে, তবে ইসলামের ফরজ হজ্ব আদায় হবে না। বরং তার হজ্ব নফল বলে গণ্য হবে। ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, জনৈকা মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একটি বাচ্চা দেখিয়ে বলেন,«এর কি হজ্ব হবে?» তিনি বলেন,« হ্যাঁ, আর তুমি ছাওয়াব পাবে।» (বর্ণনায় মুসলিম)

৪- স্বাধীনতা

অতএব দাসের ওপর হজ্ব ফরজ হবে না। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,«দাসদের মধ্যে যদি কেউ হজ্ব করে, অতঃপর তাকে আযাদ করে দেয়া হয়, তাহলে তার উপর আরেকটি হজ্ব থেকে যাবে।»(বর্ণনায় বায়হাকী)

৫- সামর্থ্য থাকা

আর তাহলো হজ্বের খরচা ও বাহন থাকা। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:

(وَلِلَّهِ عَلَى ٱلنَّاسِ حِجُّ ٱلۡبَيۡتِ مَنِ ٱسۡتَطَاعَ إِلَيۡهِ سَبِيلٗاۚ )

{মানুষের উপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ্ব করা ফরজ। আর যে কুফরী করে, তবে আল্লাহ তো নিশ্চয় সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী।} [সূরা আলে ইমরান:৯৭]

৬- নারীর সাথে মাহরাম থাকা

ইবনে আব্বাস রাযি. বর্ণনা করেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে খুতবা দেয়া অবস্থায় বলতে শুনেছি,«আর নারী সফর করবে না তবে মাহরামসহ।»(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)এ সময় এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আমার স্ত্রী হজ্বের উদ্দেশে বের হয়েছে, আর আমি ওমুক যুদ্ধে নাম লিখিয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,«তুমি যাও, তোমার স্ত্রীর সাথে হজ্ব করো।»(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম) বদলি হজ্ব

বদলি হজ্ব:

যে ব্যক্তি বার্ধক্য অথবা আরোগ্যহীন ব্যাধিজনিত কারণে অথবা এমন শারীরিক দুর্বলতা হেতু যা তাকে যানবাহনে উঠতে অসামর্থ্য করে দিয়েছে, এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আবশ্যক হলো অন্য কাউকে দিয়ে হজ্ব ও উমরা করানো। বদলি হজ্বকারী হজ্ব অথবা উমরার ইহরাম করার পর যদি সে সুস্থ হয়ে যায়, তবু তার পক্ষ থেকে বদলি হজ্ব শুদ্ধ হবে।

ফাদ্ল ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খাছআম গোত্রের জনৈকা মহিলা বললেন,«হে আল্লাহর রাসূল, আমার পিতার ওপর হজ্ব ফরজ হয়েছে, তবে তিনি অশীতিপর বৃদ্ধ এবং উটের পিঠে ঠিকমতো বসতে পারেন না। তিনি বললেন,«তুমি তার পক্ষ থেকে হজ্ব করে দাও।»(বর্ণনায় তিরমিযী )

কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে যিনি বদলি হজ্ব করবেন তার কয়েকটি শর্ত রয়েছে:

১- উপরোল্লিখিত হজ্বের যাবতীয় শর্ত বদলি হজ্বকারীর মধ্যেও বাস্তবায়িত থাকতে হবে।

২- বদলি হজ্বকারী এমন হতে হবে যিনি ইতঃপূর্বে নিজের হজ্ব করেছেন। যদি নিজের হজ্ব করে না থাকেন তবে বদলি হজ্ব শুদ্ধ হবে না। এমতাবস্থায় বদলি হজ্ব তার নিজের হজ্বে পরিণত হবে। এর প্রমাণ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, «শুবরামার পক্ষ থেকে লাব্বায়েক। তিনি বললেন, শুবরামা কে? সে বলল, আমার ভাই, অথবা আমার আত্মীয়। তিনি বললেন, তুমি কি নিজের হজ্ব করেছ? সে বলল, না। তিনি বললেন, তুমি নিজের হজ্ব করো, তারপর শুবরামার পক্ষ থেকে হজ্ব করবে।»

উমরা

আভিধানিক অর্থে উমরা

যিয়ারত

শরয়ী পরিভাষায় উমরা

যেকোনো সময় বায়তুল্লাহ শরীফের যিয়ারত করা, বিশেষ ইবাদত আদায়ের উদ্দেশে।

উমরার হুকুম ও ফজিলত

জীবনে একবার উমরা করা ওয়াজিব। কারো কারো নিকট সুন্নত। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, , «ইসলাম হলো তুমি এ সাক্ষ্য দেবে ে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। আর নামাজ কায়েম করবে, যাকাত দেবে, বায়তুল্লাহর হজ্ব করবে ও উমরা করবে, জানাবতের গোসল করবে, উজু পূর্ণাঙ্গরূপে করবে ও রমজানের রোজা রাখবে।» (বর্ণনায় ইবনে খুযায়মা )

অন্যত্র তিনি বলেছেন, «এক উমরা থেকে অন্য উমরা, এ দুয়ের মাঝে যা ঘটে, তার কাফফারা। আর মাবরুর হজ্বের প্রতিদান জান্নাত ব্যতীত অন্যকিছু নয়।»



Tags: